হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজা ইলমিয়া (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের ‘অগ্রগামী ও অনুকরণীয় হাওজা’ ক্যাম্পের আয়োজনে হাওজা ইলমিয়ার মিডিয়া ও সাইবারস্পেস সেন্টারে রবিবার ২৭ই মে, ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ মুফিদ হোসাইনি কুহসারী, আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উপ-মহাপরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আবেদীনেজাদ এবং হাওজা ইলমিয়ার কৌশলগত নেতৃত্ব গবেষণা কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক কমিটির পরিচালক ড. আলিরেজা নায়েজ ‘অগ্রগামী ও অনুকরণীয় হাওজার সনদের’ আন্তর্জাতিক দিকগুলো সম্পর্কে নিজেদের মতামত ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
‘অগ্রগামী ও অনুকরণীয় হাওজার সনদ’ হলো হাওজা ইলমিয়ার সভ্যতাগত ও বৈশ্বিক উপস্থিতির রোডম্যাপ
সভার শুরুতে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হোসাইনি কুহসারী ‘অগ্রগামী ও অনুকরণীয় হাওজা’ সম্পর্কিত শহীদ বিপ্লবী নেতার ঐতিহাসিক বাণী প্রকাশের বার্ষিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এই বাণী হাওজা ইলমিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, এই সনদ বিভিন্ন দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং বৈজ্ঞানিক, শিক্ষাগত, শিক্ষামূলক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক ছাড়াও এর অসামান্য আন্তর্জাতিক দিক রয়েছে।
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, এই সনদের পাঠ্যে ভৌগোলিক সীমানার বাইরের ও বৈশ্বিক বিষয় সংশ্লিষ্ট ১৫০টিরও বেশি অভিব্যক্তি ও কীওয়ার্ড রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, উপনিবেশবাদ, অহংকার (জাগতিক শক্তি), জায়নবাদী শাসন, ব্রিটেন, ইসলামী বিশ্ব, নাজাফ হাওজা এবং ইসলামী বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মতো অভিব্যক্তিগুলো এই কৌশলগত নথিতে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থিতি নির্দেশ করে।
হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক আরও বলেন, গত এক বছরে হাওজা ইলমিয়া, আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরাক, লেবানন, আফগানিস্তান ও ভারতের কিছু ইসলামী দেশে এ সনদের আন্তর্জাতিক দিক নিয়ে অসংখ্য সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তবুও এই বাণীটির পুনঃপাঠ ও এর প্রয়োজনীয়তাগুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি ‘অগ্রগামী ও অনুকরণীয় হাওজার সনদ’কে তিনটি স্তরে অধ্যয়নযোগ্য বলে মনে করেন: ‘মূল পাঠ’, ‘পাঠের বাইরের অংশ’ এবং ‘কৌশলগত বিশ্লেষণ’। তিনি বলেন, বাণীর স্পষ্ট পাঠ্য, এর মধ্যে নিহিত প্রয়োজনীয়তা ও শর্তাবলী এবং এই দলিল থেকে প্রাপ্ত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুতর আন্তর্জাতিক বার্তা বিদ্যমান।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হোসাইনি কুহসারী এ সনদে হাওজা ইলমিয়ার পরিচয়-নির্মাণের পাঁচটি স্তম্ভের উল্লেখ করে বলেন, শহীদ বিপ্লবী নেতা পরিচয়-নির্মাণের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে দুটি স্তম্ভ সম্পূর্ণ বিশ্বব্যাপী ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছেন; প্রথমত, বৈশ্বিক আধিপত্য ও অহংকারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথম সারি হিসেবে হাওজা ইলমিয়া, এবং দ্বিতীয়ত, ইসলামের বৈশ্বিক বার্তার কাঠামোতে আধুনিক ইসলামী সভ্যতা গঠনের বিষয়টি, যাকে ‘হাওজা ইলমিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সনদে হাওজা ইলমিয়াকে কেবল একটি শিক্ষামূলক বা প্রচারমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব পরিসরে একটি রূপান্তরকারী ও প্রভাবশালী কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; একটি প্রতিষ্ঠান যার লক্ষ্য নবীদের ও ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যের ধারাবাহিকতায় সংজ্ঞায়িত।
হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক হাওজার বৈজ্ঞানিক, প্রচার ও সভ্যতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে বলেন, হাওজা ইলমিয়াকে বিশ্ব স্তরে বৈজ্ঞানিক কর্তৃত্ব অর্জন করতে হবে, বিশ্বের উদীয়মান চাহিদা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক উৎপাদন করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞানের সীমানার সাথে সমালোচনামূলক মিথস্ক্রিয়া স্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সভ্যতা-নির্মাণকারী ফিকহ (ইসলামী আইনশাস্ত্র), সভ্যতা-নির্মাণকারী মানবিক বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় জ্ঞানের উম্মত-নির্মাণকারী দৃষ্টিভঙ্গি এমন কয়েকটি বিষয় যা সনদের আন্তর্জাতিক দিক বাস্তবায়নের পথে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হোসাইনি কুহসারী বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক যোদ্ধা তৈরির প্রয়োজনীয়তা, নরম যুদ্ধের সাথে বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবিলা এবং হাওজার কূটনীতি জোরদার করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, হাওজা ইলমিয়ার উচিত ব্যবস্থা গঠন ও তত্ত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ব পর্যায়ে ইসলামী মডেল উপস্থাপন করতে সক্ষম হওয়া।
তিনি তার বক্তৃতার অন্য অংশে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে শহীদ বিপ্লবী নেতার শাহাদাতকে একটি আন্তর্জাতিক নবুওয়াতী মিশন (বিথাত) গঠনের কারণ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আজ বিশ্ব আধিপত্য ব্যবস্থার ধীরে ধীরে পতন, জায়নবাদী শাসনের পতন এবং একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনের সম্মুখীন এবং এই পরিস্থিতি হাওজা ইলমিয়ার দায়িত্ব আরও ভারী করে তুলেছে।
হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওজার কিছু রূপান্তরমূলক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করে বলেন, দেশের বড় বিষয়গুলোতে কৌশলগত সদর দফতর তৈরি, হাওজা ও রাষ্ট্রের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার কাঠামো গঠন, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত ধর্মপ্রচারের প্রসার এবং রাষ্ট্রের বৌদ্ধিক ও জ্ঞানীয় চাহিদা পূরণের প্রক্রিয়া ডিজাইন করা সনদের লক্ষ্য অর্জনের পথে শুরু হওয়া কিছু রূপান্তরের অংশ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই সব পদক্ষেপ সত্ত্বেও, আমরা এখনও পথের শুরুতে আছি এবং আধুনিক ইসলামী সভ্যতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আরও দৃঢ় সংকল্প, বক্তৃতার রূপান্তর এবং সংগ্রামী আন্দোলনের প্রয়োজন।
আপনার কমেন্ট